হাম প্রতিরোধে শিশুদের টিকাদান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা। তিনি জানিয়েছেন, যেসব শিশু ইতোপূর্বে হামের টিকার দুটি ডোজ সম্পন্ন করেছে, তাদের নতুন করে আর এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, হামের টিকা গ্রহণের নির্ধারিত সূচি হলো-
প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়সে।
দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে।
ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেছেন, যদি কোনো শিশু এই নির্দিষ্ট সময়ে (৯ মাস ও ১৫ মাসে) টিকার দুটি ডোজ যথাযথভাবে পেয়ে থাকে, তবে তার শরীরে হাম প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা তৈরি হয়ে যায়। ফলে পুনরায় নতুন করে আর টিকা নেয়ার আবশ্যকতা থাকে না।
শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সঠিক সময়ে টিকাদান এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেয়া হবে। টিকার পাশাপাশি অসুস্থ শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একটি শিশুও যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে। যারা আগে নিয়মিত কর্মসূচিতে টিকা নিয়েছে, তারাও এই বিশেষ টিকা নিতে পারবে; এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকোপ বিবেচনায় ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই কর্মসূচির জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। জেলাগুলো হলো— বরগুনা (বরগুনা পৌরসভা ও সদর), পাবনা (পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, বেড়া), চাঁদপুর (চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, হাইমচর), কক্সবাজার (মহেশখালী, রামু), গাজীপুর (গাজীপুর সদর), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট), নেত্রকোনা (আটপাড়া), ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা, শ্রীনগর), রাজশাহী (গোদাগাড়ী), বরিশাল (মেহেন্দীগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ), নওগাঁ (পোরশা), যশোর (যশোর পৌরসভা ও সদর), নাটোর (নাটোর সদর), মুন্সীগঞ্জ (মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং), মাদারীপুর (মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর), ঢাকা (নবাবগঞ্জ), ঝালকাঠি (নলছিটি), শরীয়তপুর (জাজিরা)।
প্রসঙ্গত, দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২০ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮১২ জন। সর্বশেষ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
Leave a Reply