সময় রূপান্তর

প্রতিটি মূহুর্তে নির্ভরযোগ্য সংবাদ

টঙ্গীতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ৪ পুলিশসহ আহত ৫

মাকসুদ আহমাদ রবিন:- টঙ্গীর কেরানীরটেক বস্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান চলাকালে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে ৭ জনকে আটক করেছে। এতে প্রায় ৪ পুলিশসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে টঙ্গীর আমতলী কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে কেরানীরটেক মাদক বস্তিতে অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদেরকে ঘিরে ফেলে, এক পর্যায়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে। এরপর পুলিশ আত্মরক্ষার্থে বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায়। এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় শুরু হলে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৫ জন  আহত হয়। এ সময় পুলিশ ৭ জনকে আটক করে টঙ্গী পূর্ব থানায় নিয়ে আসে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন রাত সাড়ে ১২ টায় এক প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বুধবার রাত পৌনে ১০টায় গোপন সংবাদের ভিতিত্তে সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আছাবুর রহমানের নেতৃত্বে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি (উত্তর ও দক্ষিণ) বিভাগের যৌথ টিম টঙ্গী পূর্ব থানাধীন হিমারদীঘি আমতলী কেরানীরটেক এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে যায়, সেখানে গেলে উক্ত এলাকার একাধিক মাদক মামলার আসামি মোসা. রুনা আক্তার রুনা বেগমের (৩৪) বাসার সামনে পাকা রাস্তার ওপর উপস্থিত হলে ধৃত আসামি মো. শাহীন (৩৬), মো. সোহেল (২৮), মো. রায়হান (১৯), রওশন আরা (৩০), সুমি আক্তার (২৪), নূরজাহান (৫৩) ও বিউটি আক্তার (৫৬) ও পলাতক আসামি মোসা. রুনা আক্তার রুনা বেগমসহ (৩৮) অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন আসামিকে আটক করতে গেলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে। এক পর্যায় তারা লোকজন জড়ো করে ডিবি পুলিশের ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তারা হত্যার উদ্দেশ্যে কং/১৬৪৩ মো. আরিফুল ইসলামের ডান পায়ের মধ্য আঙুলে ও কং/১৩২৮ মো. রাকিবুল ইসলামের ডান পায়ের মাঝখানে দুইটি আঙুলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি মারিয়া জখম করে। এএসআই (নিঃ) নুরে আলম, নারী কং/জাহানারাদেরকে উল্লেখিত আসামিরা মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।

উল্লেখিত আসামিরা পুলিশের সরকারী কর্তব্য কাজে বাধা প্রদান করিতে থাকিলে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি  স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও নিজেদের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে চারটি সাউন্ড গ্রেনেট ফাঁকা বিস্ফোরিত করে। এরপর আসামিরা এদিক সেদিক দৌড়াইয়া পালানোর চেষ্টা করলে উল্লেখিত ৭ আসামিকে আটক করা হয়| এ সময় পলাতক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামির দৌড়ে পালিয়ে যায় আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল চিকিৎসা প্রদান করা হয়। উক্ত ঘটনায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন|।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।